সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

পাহাড়ের ‘‘ম্যান অব প্রিন্সিপলের‘‘ মহাপ্রয়াণ

  সপ্তম শ্রেণিতে পড়তাম । খাগড়াছড়ি সদরের খাগড়াছড়ি সরকারি স্কুল । দুটো শিফটে স্কুল চলত, এখনো চলে । আমি মর্ণিং এ ছিলাম । তখন সকাল সকাল দৌড়, ক্লাস এবং শেষে আবার বাসার দিকে দৌড় । স্কুল থেকে ফিরেই খেলাধুলা আর বইয়ে মুখ গুজে দিতাম । একাডেমিক পড়ার বাইরে কোনো গল্প-তল্প-কবিতার বই পড়া হতো না । তবে ম্যাগাজিন পড়া হত । ভালো লাগত কৌতুক,গল্প,। স্কুল থেকে বার্ষিক ম্যাগাজিন বেরুত । ‘নিসর্গ’, ‘গৈরিকা’ ‘স্পন্দন’ নানা নাম দেওয়া হত এগুলো । ম্যাগাজিনে শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রীদের সৃজনশীলতায় ভরপুর গল্প, কৌতুক, কবিতা, ভ্রমণকাহিনী, স্মৃতিচারণ লেখা থাকত । লেখাগুলো ভালো লাগলে বার বার পড়া হত । এরকম একটি লেখার সাথে পরিচয় ঘটে আমার প্রিয় স্কুলের একসময়ের ছাত্র ও শিক্ষক এ.বি. খীসা স্যারের সাথে । স্কুল নিয়ে তাঁর একটি স্মৃতিচারণ লেখায় । স্মৃতিচারণটি কিছু কিছু মনে আছে । আজ থেকে ১১ বছর আগে পুরোপুরি মনেও থাকার কথা নই । ওই লেখার ম্যাগাজিন ও হারিয়ে ফেলেছি । আমি ভাবতাম, এই বৃদ্ধ-বয়স্ক লোকটাকে তো স্কুলে কখনো দেখেনি কিন্তু স্কুল ম্যাগাজিন তারঁ লেখা অনবরত ছাপিয়ে যাচ্ছে । অনেক পরে জেনেছিলাম কেন স্কুল ম্যাগাজিনে উনার লেখা ছাপা হত । এ...

রাজনৈতিক জীবন গঠনে চৌ এন লাইয়ের নির্দেশ

চৌ এন লাই এক সময় চীনের কমিউনিস্ট পার্টির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। চীন গণপ্রজাতন্ত্র গঠিত হবার পরে তিনি এ দেশটির প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৪৩ সালের ১৮ মার্চ “Guidelines for Myselfs” শিরোনামে নিজের কাজের জন্য নির্দেশনামূলক ছোট কিন্তু খুবই উপযোগী একটি তালিকা প্রণয়ন করেন। এতে মোট ৭টি নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। রাজনৈতিক নীতি আদর্শকে ঠিক রেখে তার নিজের জন্য যে করণীয় সে বিষয়েই তিনি এতে আলোকপাত করেন। আমার মতে, একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিকে একই সাথে একজন সামাজিকভাবে দায়িত্ববোধসম্পন্ন ব্যক্তিরও চৌএনলাই -এর নিজের জন্য প্রণীত এই করণীয় বা নির্দেশনাগুলো পাঠ করা এবং মেনে চলা একান্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিচে করণীয় বা নির্দেশনাসমূহ বাংলা অনুবাদ করে তুলে ধরা হলো : ১. পড়াশুনা করো একান্তভাবে বা অধ্যবসায়ের সাথে। বিভিন্ন বিষয়ে ভাসা ভাসা জ্ঞান অর্জন না করে যে কোন একটি বিষয়ে মন কেন্দ্রীভূত করে জ্ঞান অর্জনের চেষ্টা করো। ২. কাজ করো কঠোর পরিশ্রম করে। পরিকল্পনা প্রণয়ন করো। লক্ষ্য স্থির করো এবং পদ্ধতিমতো কাজ করে যাও। ৩. কাজ ও পড়াশুনাকে এক সাথে এগিয়ে নাও। তাদের উভয়কে সময়, স্থান ও পরিস...

রাষ্ট্র কী প্লুং বাঁশির বেদনার সুর শুনবে?

তারিখঃ ১১ নভেম্বর ২০২০ ২০১৩ সালের ৬ নভেম্বর সাজেক ভ্যালিতে পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছিলেন চট্টগ্রাম ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি সাব্বির আহমেদ। ঘোষণার কিছুদিন পরেই ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ সালে রাষ্ট্রপতি মো: আব্দুল হামিদ ৩০ জন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নিয়ে সাজেক ভ্যালি দেখতে গিয়েছিলেন। জানা যায়, মহামান্য রাষ্ট্রপতি লুসাই আদিবাসী অধ্যুষিত রুইলুই পাড়ায় বেশ স্বাচ্ছন্যপূর্ণ ও সুন্দর সময় কাটিয়ে ফিরেছিলেন। সাজেকের সৌন্দর্য তখন থেকে পর্যটকদের কাছে ডানা মেলা শুরু করেছে এবং সাজেক প্রমোটে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে তখন দেশের সব মিডিয়া, সেনাবাহিনী, বিভিন্ন ট্রাবেল গ্রুপ ও উন্নয়নের রাজনীতি করা নেতা-আমলারা। এই পর্যটন প্রমোট ও গড়ে তোলার ফাঁকফোকরে পড়ে কখন যে রুইলুই পাহাড়ে লুসাই ৮৫ পরিবার উচ্ছেদ হয়ে গেলো আমরা কেউ জানতেও পারলাম না। কোনো মিডিয়া, সরকারি কর্মকর্তা ও আমলারা এ বিষয়ে টুঁ শব্দ করেননি, কেউ কিছু বলেননি। সবাই নীরব ছিলেন। গতমাসে (১৫ অক্টোবর, ২০২০ ) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বান্দরবান সফরে গিয়েছিলেন। তিনি থানচি উপজেলায় বেশ কিছু পর্যটন স্পট ঘুরে দেখেন। এরমধ্যে স্থানীয় ভূমি...

পার্বত্য চট্টগ্রামে রাষ্ট্রের ডেমোগ্রাফিক প্যাটার্ন ও ইসলামিক আধিপত্যবাদ

তারিখ ঃ ১৭ অক্টোবর ২০২০ রাষ্ট্রের গোড়াপত্তনের ইতিহাসে কিছু কিছু অঞ্চলে জনসংখ্যা পরিবর্তনের সাথে রাষ্ট্রের আধিপত্যের একটা গভীর সম্পর্ক আছে। যখন রাষ্ট্রের আধিপত্যের প্রশ্ন আসে তখন ধর্মের আধিপত্যও মাথা চাড়া দিয়ে ‌উঠে। যেমন হয়েছিল কলম্বাসের আমেরিকা আবিষ্কারের পর, কিংবা অফ্রিকা-এশিয়ায় ইউরোপীয়দের কলোনী আবিষ্কারের পর। সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলো কিংবা উত্তর-পশ্চিমের রাজ্য কাশ্মীরে এই রাজনৈতিক ও ধর্মীয় আধিপত্য প্রবল আকার ধারণ করেছে। গত বছর কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করা হলে ভারতের কেন্দ্রীয় কট্টর হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপি, হিন্দু সভা, আরএসএস ধর্মীয় আধিপত্য বিস্তারে কাশ্মীরে দৌঁড়ঝাপ শুরু করে। যদিও অনেক আগে মুসলিম অধ্যুষিত জম্মু শহরে হিন্দু অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে হিন্দু অধ্যুষিত অঞ্চলে পরিণত করা হয়েছে। তেমনি আমাদের পার্শ্ববর্তী ত্রিপুরা রাজ্যেও হিন্দু বাঙালি অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে স্থানীয় ভূমিপুত্র ত্রিপুরাদের সংখ্যালঘু করা হয়েছে। রাষ্ট্র সরাসরি এই আগ্রাসন ও আধিপত্যের সঙ্গে জড়িত। প্রায় সময় রাষ্ট্রের স্বার্থের প্রয়োজনে নির্দিষ্ট অঞ্চলগুলোতে ডেমোগ্রাফিক চেঞ্জ বা জনসং...

পার্বত্য চট্টগ্রামে বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ এবং রাষ্ট্রের বিচ্ছিন্নতা তত্ত্ব

তারিখ :২৭ অক্টোবর ২০২০ কার্ল মার্কস প্রথম বিচ্ছিনতা (alienation) প্রত্যয়টি ব্যবহার করেন। মার্কসের মতে এই বিচ্ছিন্নতা হল এমন একটি সামাজিক ব্যবস্থা যা একজন মানুষকে একটি অর্থপূর্ণ ও সৃষ্টিশীল জীবনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করে। অর্থাৎ একজন মানুষ যখন আধুনিক পুঁজিবাদী সমাজে উৎপাদন, সামাজিক ব্যবস্থা, সংগঠন, নিজের শ্রমের সাথে একাত্ম হতে পারে না তখন সে সবকিছু থেকে বিচ্ছিন্নবোধ করে। এভাবে বোঝা আরো সহজ, যখন আধিপত্যবাদী রাষ্ট্র জনগণের সঙ্গে আধিপত্যের সম্পর্ক স্থাপন করার চেষ্টা করে তখন জনগণের মধ্যে বিচ্ছিনতাবোধের জন্ম হয়। এবং রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানের সাথে জনগণের সম্পর্কও বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। যদিও মার্কস শ্রমিক শ্রেণিকে প্রাধান্য দিয়ে তাঁর তত্ত্বকে উপযোগী করেছেন । কিন্তু এ বিচ্ছিনতার ধারণা আধুনিক পুঁজিবাদী সমাজে সকলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য এবং বড় সংকটও বটে। পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের ক্ষেত্রে ও রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকরা এই বিচ্ছিন্নতা তত্ত্বকে সফলভাবে প্রয়োগ করেছেন । দীর্ঘ পাঁচ দশক ধরে ব্যয়বহুল সামরিক শাসন জারি রেখে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর উপর শারীরিক ও মনস্তাত্ত্বিক আধিপত্য কায়েম করার সর্বোচ্চ চেষ্টা হয়েছে। ...

পার্বত্য রাণী কালিন্দীঃ ব্রিটিশ উপনিবেশ বিরোধী লড়াইয়ে এক সাহসী নারী

পার্বত্য রাণী কালিন্দীঃ ব্রিটিশ উপনিবেশ বিরোধী লড়াইয়ে এক সাহসী নারী ০৪ অক্টোবর ২০২০ উপমহাদেশে ব্রিটিশ দখলদারীত্বের বিরুদ্ধে চাকমা রাজাদের নেতৃত্বে পার্বত্য অঞ্চলের অধিবাসীরা দীর্ঘ দুই যুগ (১৭৭২-১৭৯৮ ) সশস্ত্র প্রতিরোধ করে। রাজা শের দৌলত খাঁ,যুবরাজ জানবক্ম খাঁ এবং সেনাপতি রুণু খাঁসহ আরও কজন ছিলেন এই প্রতিরোধ যুদ্ধের বীর নায়ক।এর মধ্যে অসম সাহসী ও বিচক্ষণ সেনাপতি রুণু খাঁ প্রতিরোধ লড়াইয়ে প্রতীক ও প্রবাদ - প্রতিম হয়ে আছেন।গেরিলা যুদ্ধে পারদর্শী পার্বত্য অধিবাসীদের প্রতিরোধ যুদ্ধে ব্রিটিশ কোম্পানি বিশেষ সুবিধা করতে না পেরে পার্বত্য রাজ্যের স্বাধীনতা মেনে নিতে এবং রাজা জান বক্স খাঁর সঙ্গে চুক্তি করতে বাধ্য হয়।ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর তৎকালীন গভর্ণর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস   চাকমা রাজা জানবক্স খাঁ’কে কোলকাতায় আমন্ত্রণ জানান। ১৭৮৫ সালের ফেব্রুয়ারির কোন এক দিনে ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি সম্পাদিত হয়।কিন্তু পরবর্তীতে ধুরন্ধর ব্রিটিশ শাসকরা চুক্তির শর্ত লঙ্গন করে।এবং বীর সেনাপতি রুণু খাঁ‘র নেতৃত্বে আবারো ব্রিটিশ বিরোধী লড়াই চলতে থাকে। এই উপনিবেশ বিরোধী লড়াইয়ে...

এই সময়ে এম এন লারমা: যিনি মৃত্যুর পরও নিপীড়িত জনগণের মুক্তির দিশারী;

  এই সময়ে এম এন লারমা: যিনি মৃত্যুর পরও নিপীড়িত জনগণের মুক্তির দিশারী; ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০     পোট্রেটঃ পাপিয়া চাকমা,জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার শিক্ষার্থী;     [গত ১৫ সেপ্টেম্বর এন লারমার ৮১ তম জন্মদিবস ছিল।১৯৩৯ সালের তিনি রাঙামাটির “মাওরুম“ নামে ছোট্ট নদীর/ছড়ার তীরে মাওরুম গ্রামে জন্মেছিলেন। এম এন লারমা কারো কাছে পরিচিত ‘লিডার’,তাঁর ভাই বোনের কাছে পরিচিত মঞ্জু নামে,জুম্ম জনগণের প্রায় সকলের কাছে তিনি অবিসংবাদিত নেতা,পার্টির নামে তিনি পরিচিত “প্রবাহণ “।তাঁর পুরো নাম মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা।মহান এই নেতাকে  জানাই লাল সালাম।গত কয়েকদিন আগে তাঁকে নিয়ে অনেকে লিখেছেন,,বলেছেন,আবেগাক্রান্ত হয়েছেন,শ্রদ্ধায় মাথা নত করেছেন এবং কেউ কেউ  বিরুদ্ধাচারণও করেছেন।আমি মনে করি ,এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এম এন লারমার কর্ম,সাধনা,চিন্তার যথার্থ মূল্যায়ন হওয়া দরকার। নিপীড়িত জুম্ম জনগণ এবং ব্যাক্তি এম এন লারমার লড়াইকে একই সূতায় গাঁথা দরকার।এবং পার্বত্য চুক্তি উত্তর প্রজন্মে জুম্ম জনগণের লড়াইকে এগিয়ে নিতে সঠিকভাবে এম এন লারমাকে   উপস্থাপনও এই স...