সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পার্বত্য রাণী কালিন্দীঃ ব্রিটিশ উপনিবেশ বিরোধী লড়াইয়ে এক সাহসী নারী

পার্বত্য রাণী কালিন্দীঃ ব্রিটিশ উপনিবেশ বিরোধী লড়াইয়ে এক সাহসী নারী

০৪ অক্টোবর ২০২০

উপমহাদেশে ব্রিটিশ দখলদারীত্বের বিরুদ্ধে চাকমা রাজাদের নেতৃত্বে পার্বত্য অঞ্চলের অধিবাসীরা দীর্ঘ দুই যুগ (১৭৭২-১৭৯৮ ) সশস্ত্র প্রতিরোধ করে। রাজা শের দৌলত খাঁ,যুবরাজ জানবক্ম খাঁ এবং সেনাপতি রুণু খাঁসহ আরও কজন ছিলেন এই প্রতিরোধ যুদ্ধের বীর নায়ক।এর মধ্যে অসম সাহসী ও বিচক্ষণ সেনাপতি রুণু খাঁ প্রতিরোধ লড়াইয়ে প্রতীক ও প্রবাদ- প্রতিম হয়ে আছেন।গেরিলা যুদ্ধে পারদর্শী পার্বত্য অধিবাসীদের প্রতিরোধ যুদ্ধে ব্রিটিশ কোম্পানি বিশেষ সুবিধা করতে না পেরে পার্বত্য রাজ্যের স্বাধীনতা মেনে নিতে এবং রাজা জান বক্স খাঁর সঙ্গে চুক্তি করতে বাধ্য হয়।ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর তৎকালীন গভর্ণর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস  চাকমা রাজা জানবক্স খাঁ’কে কোলকাতায় আমন্ত্রণ জানান।

১৭৮৫ সালের ফেব্রুয়ারির কোন এক দিনে ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি সম্পাদিত হয়।কিন্তু পরবর্তীতে ধুরন্ধর ব্রিটিশ শাসকরা চুক্তির শর্ত লঙ্গন করে।এবং বীর সেনাপতি রুণু খাঁ‘র নেতৃত্বে আবারো ব্রিটিশ বিরোধী লড়াই চলতে থাকে।

এই উপনিবেশ বিরোধী লড়াইয়ের উর্বরক্ষেত্রে পার্বত্য রাজ্যে শাসক হন তেজস্বিনী রাজ মহিয়সী রাণী কালিন্দী(১৮৩২-১৮৭৩)।তিনি দীর্ঘ তিন যুগের অধিক পার্বত্য রাজ্যে শাসন করেন।এবং তাঁর জীবদ্দশায় ব্রিটিশ বেনিয়ারা পার্বত্য অঞ্চলে কতৃত্ব স্থাপন করতে পারেনি।


                    রাণী  কালিন্দীর রাজানগরের রাজপ্রাসাদ;রাজা জান বক্স খাঁ’র আমলে এটি   নির্মিত হয়।

                                                                  ছবি-কালের কন্ঠ


রাণী কালিন্দী  রাঙামাটির হুদুকছড়িতে এক জুমিয়া কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।তাঁর বাবাকে সকলে ডাকতো গুজং বুজ্যা ।জুমিয়া বাবা কালিন্দীর নাম রাখেন কালাবী।কালাবী পাহাড়ের ঝিরি-ঝর্ণা,প্রাণ-প্রকৃতির সান্নিধ্যে বড় হয়ে উঠেন।

একদিন রাজা জানবক্স খাঁ‘র পুত্র যুবরাজ ধরম বক্স খাঁ রাজানগর থেকে সৈন্য-সামন্ত ,হাতি নিয়ে গভীর জঙ্গলে শিকারে যান। শিকার করতে করতে তিনি হুদুকছড়ি এলাকায় পৌছেন।এসময় কালাবীর সঙ্গে দেখা হয়। পরে ১৮১১ সালে প্রাসাদ ষড়যন্ত্রে রাজা জান বক্স খাঁ মারা গেলে ধরম বক্স খাঁ রাজা হন।এবং বিবাহের উপযুক্ত সময় ঘনিয়ে এলে রাজা ধরম বক্স খাঁ গুজং বুজ্যার বাড়িতে বিয়ের সম্বোধন পাঠান।ইতিহাস থেকে অনুমান করা হয়,রাজা ধরম বক্স খা ও রাণী কালিন্দীর বিয়ে হয় আনুমানিক ১৮১৯ বা ১৮২০ সালে।রাজানগরে এসে কালাবী থেকে নাম রাখা হ রাণী কালিন্দী।রাণীর গর্ভে কোন সন্তান  না হওয়ায় রাজা জ্ঞাতিবোন আটকবীকে বিয়ে করেন।কিন্তু তার গর্ভেও কোনো সন্তান না হওয়ায় রাজা আরেকবার দৌলত খাঁ‘র কন্যা হারিবীকে বিয়ে করেন।

রাণী হারিবী‘র গর্ভে এক কণ্যা সন্তান জন্ম হয়।তার নাম রাখা হয় মেনকা।এই মেনকার গর্ভে পরবর্তী রাজা হরিশচন্দ্রের জন্ম হয়।

রাজা ধরম বক্স খাঁ‘র ১৮৩২ সালে মৃত্যু হলে রাজ্যে সিংহাসন নিয়ে গোলযোগ দেখা দেয়।কোম্পানী সরকার ১৮৩৫ সালে শুকলাল খাঁ‘কে পার্বত্য রাজ্যের সাপ্লাইয়ার এবং রাজ উত্তরসূরী মেনকার অভিাভাবক হিসেবে কনিষ্ঠা রাণী হারিবী‘কে নিযুক্ত করে। রাণী কালিন্দী কোম্পানীর এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেন এবং অনেক আইনী লড়াইয়ের পর  ইংরেজ কোম্পানী ১৮৪৪ সালে রাণী কালিন্দীকে রাজ্যে শাসক এবং যাবতীয় সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হিসেবে স্বীকৃত দেয়

তাঁরপরও কোম্পানীর ষড়যন্ত্র ও আধিপত্য প্রতিষ্ঠা অব্যাহত থাকে।রাণী কালিন্দী কূটনৈতিক ও বিচক্ষণতার সাথে সকল ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে যান।

রাণী কালিন্দী  পার্বত্য রাজ্যের উত্তরাধিকারী হরিশচন্দ্রকে রাজ্যে শাসনের যোগ্য করে তোলেন।এবং ১৮৭২ সালে রাণীর নির্দেশক্রমে হরিশচন্দ্র ব্রিটিশদের “লুসাই অভিযানে” অংশ্গ্রহণ করেন এবং সফলতাস্বরূপ ইংরেজ সরকার তাঁকে “রায় বাহাদুর” উপাধি দেয়।এই অভিযানের পর হরিশচন্দ্র রাজানগরে ফিরলে রাণী মহাসমারোহে রাজ্যের শাসনভার অর্পণ করেন।

১৮৬০ সালের আগ পর্যন্ত ইংরেজরা চট্টগ্রাম থেকে দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে শাসনকার্য পরিচালনা করতো।ফলে বাস্তব অর্থে প্রত্যক্ষ বৃটিশ শাসন ছিলো না।

১৮৬১ সালের পর হতে পার্বত্য চট্টগ্রামের জন্য বিভিন্ন সময়ে কয়েকজন সুপারিন্টেডেন্ট নিয়োগ পেলে ও মূলতঃ ১৮৬৬ সাল হতে ক্যাপ্টেন টি.এইচ.লুইন নিয়মিত শাসনকর্তা হন।এবং ক্যাপ্টেন লুইন দুইবার (১৮৬৬-৬৯,১৮৭১-৮১) পার্বত্য অঞ্চলের শাসনকর্তা হন।এর আগে এই অঞ্চলে ব্রিটিশদের নিয়মিত শাসক ছিলো না।পার্বত্য অঞ্চল দুর্গম ও স্বশাসিত হওয়ায় এক দু‘বছর থেকে অন্যত্র বদলি হয়ে যেতেন।

ক্যাপ্টন লুইন ১৮৬৯ সালে ১লা জানুয়ারী চন্দ্রঘোনা হতে রাঙামাটিতে প্রশাসনিক হেডকোয়ার্টার স্থানান্তর করেন।ক্যাপ্টেন লুইনের মূল উদ্দেশ্য ছিল নতুন রাজ্যে বৃটিশের স্থায়ী অধিকার ও প্রাধান্য বিস্তার করা।

অন্যদিকে রাণী কালিন্দী এর ঘোর বিরোধিতা করেন।এবং অচিরেই কূটকৈাশলী ক্যাপ্টেন লুইনের সাথে তেজস্বনী রাণীর বিরোধ স্পষ্ট হয়।

ক্যাপ্টেন লুইন প্রথম অবস্থা থেকে রাণীর প্রতি সন্দিহান ছিলেন।লুইনের মতে,রাণী একজন সাধারণ জুমিয়া পরিবারের কণ্যা এবং অশিক্ষিত ও বিধবা।এই নারীর পক্ষে কীভাবে রাজ্যে পরিচালনা সম্ভব?কিন্তু রাণী কালিন্দী ছিলেন স্বশিক্ষিত, বুদ্ধিমতী,নিষ্ঠাবান ও দেশপ্রেমী।

রাজ্যের সাধারণ প্রজা চাকমা,মারমা,হিন্দু-মুসলিম সকলের রাণী কালিন্দীর প্রতি অগাধ বিশ্বাস,শ্রদ্ধা ও ভালবাসা ছিল।

সুচুতুর ও ধূর্ত লুইন রাণী কালিন্দীকে নানাভাবে ক্ষমতা খর্ব, অসম্মান ও অপদস্ত করার চেষ্টা চালাতেন।এই লক্ষ্যে ক্যাপ্টেন লুইন কাচালং ও কর্ণফুলী অঞ্চলে ষানচন্দ্র দেওয়ান এবং চেঙ্গী উপত্যকায় নীলচন্দ্র দেওয়ানকে শাসনভার প্রদান করতে চেয়েছিলেন।কিন্তু তাঁরা রাণীর প্রতি বিশ্বস্ত ও অনুগত থাকায় লুইনের এই অপচেষ্টা ব্যর্থ হয়।

ক্যাপ্টেন লুইন একবার রাণী কালিন্দীকে সাক্ষাতের প্রস্তাব দিয়ে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করেন।কিন্তু রাণী রাজ্যের পর্দানশীল প্রথা অনুসরণ করায়  লুইনের প্রস্তাবকে প্রত্যাখান করেন।এবং রাজদূতের মাধ্যমে জানিয়ে দেন,“ওই বানরের মুখ আমি দেখতে চাই না।”

পরে ক্যাপ্টেন লুইন সৈন্য সামন্ত নিয়ে জোরপূর্বক রাজবাড়ীতে সাক্ষাৎ করতে গেলে রাজবাড়ীর রক্ষী বা অনুচরদের দ্বারা বাধাপ্রাপ্ত হন।রাজানগরের প্রজাগণ ক্যাপ্টেন লুইনকে ঘেরাও করে রাখে এবং অপমান করে তাড়িয়ে দেয়।ধূর্ত লুইন এই অপমাণ সহজে ভুলে যাননি।

ক্যাপ্টেন লুইনের আরো অভিযোগ কথিত রয়েছে যে,রাজানগরে মহামুনি মেলা দেখতে গেলে রাণী তাঁকে গুপ্ত ঘাতক দিয়ে হত্যা করতে চেয়েছেন।পরে সাক্ষী  প্রমাণের অভাবে তিনি কোথাও মামলা করেননি।এবং এই বিষয়ে ও তিনি তাঁর লেখা বইসমূহে উল্লেখ করেননি।

ক্যাপ্টেন লুইন যখন একে এক সব দিকে ব্যর্থ হলেন তখন তিনি চাকমা রাজ্যকে শাসনের সুবিধার অজুহাত দেখিয়ে দু‘ভাগে ভাগ করার প্রস্তাব প্রাদেশিক গভরণর্রের কাছে রিপোর্ট পেশ করেন।

এ রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তীতে ১৮৮১ সালের ১লা সেপ্টেস্বর ইংরেজ সরকার পার্বত্য রাজ্যেকে তিনটি সার্কেলে(চাকমা,বোমাং,ও মং সার্কেল) বিভক্ত করে।

রাণী কালিন্দী এক সাধারণ জুমিয়া পরিবারে বেড়ে উঠলেও তিনি স্বশিক্ষিত এবং রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক দূরদর্শিতায় প্রাজ্ঞ ছিলেন।তিনি রাজ্যে সামাজিক ও ধর্মীয় ক্ষেত্রে অবদান রাখেন।তিনি বৌদ্ধ ধর্মকে রাজ্যে প্রচার ও প্রসারের জন্য রাজানগরে ভিক্ষু সারমেধ মহাস্থবির ও তাঁর শিষ্যদের আমন্ত্রণ করেন।এবং  মহামুনি বৌদ্ধ বিহার স্থাপন করেন।এ বিহারকে ঘিরে প্রতিবছর ‘মহামুনি মেলা’ প্রবর্তন করেন যা আজ ও উৎসব হিসেবে পালিত হয়।সেই সময় বিখ্যাত “বৌদ্ধ রঞ্জিকা” প্রকাশেও তিনি পৃষ্ঠপোষকতা করেন।এবং রাজানগরে হিন্দুদের জন্য মন্দির ও মুমলিমদের জন্যে মসজিদ নির্মাণ করেন।তিনি রাজ্যের হিন্দু,মুসলমাননহ সকল ধর্মের প্রজাদের অনুগ্রাহী ও বিশ্বস্ত ছিলেন।

রাণী কালিন্দীর শাসনকালে ব্রিটিশ বেনিয়ারা পার্বত্য অঞ্চলে আধিপত্য স্থাপন করতে পারেননি।তিনি রাজ্যে জনগণকে নিয়ে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছেন।উপমহাদেশে স্বাধীনতা এবং স্বীয় রাজ্যে রক্ষায় ঝাঁসির রাণী লক্ষীবাঈ কিংবা রাজপুতের পদ্মাবতীর মত রাণী কালিন্দী ছিলেন সমসাময়িক কালের ব্রিটিশ বেণিয়াদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ লড়াইয়ে অগ্রণী নারী শাসক।

১৮৭৩ সালে এই মহিয়সী সাহসী নারী বর্তমান রাঙুনিয়ার রাজানগর রাজপ্রাসাদে মারা যান।

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

এই সময়ে এম এন লারমা: যিনি মৃত্যুর পরও নিপীড়িত জনগণের মুক্তির দিশারী;

  এই সময়ে এম এন লারমা: যিনি মৃত্যুর পরও নিপীড়িত জনগণের মুক্তির দিশারী; ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০     পোট্রেটঃ পাপিয়া চাকমা,জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার শিক্ষার্থী;     [গত ১৫ সেপ্টেম্বর এন লারমার ৮১ তম জন্মদিবস ছিল।১৯৩৯ সালের তিনি রাঙামাটির “মাওরুম“ নামে ছোট্ট নদীর/ছড়ার তীরে মাওরুম গ্রামে জন্মেছিলেন। এম এন লারমা কারো কাছে পরিচিত ‘লিডার’,তাঁর ভাই বোনের কাছে পরিচিত মঞ্জু নামে,জুম্ম জনগণের প্রায় সকলের কাছে তিনি অবিসংবাদিত নেতা,পার্টির নামে তিনি পরিচিত “প্রবাহণ “।তাঁর পুরো নাম মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা।মহান এই নেতাকে  জানাই লাল সালাম।গত কয়েকদিন আগে তাঁকে নিয়ে অনেকে লিখেছেন,,বলেছেন,আবেগাক্রান্ত হয়েছেন,শ্রদ্ধায় মাথা নত করেছেন এবং কেউ কেউ  বিরুদ্ধাচারণও করেছেন।আমি মনে করি ,এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এম এন লারমার কর্ম,সাধনা,চিন্তার যথার্থ মূল্যায়ন হওয়া দরকার। নিপীড়িত জুম্ম জনগণ এবং ব্যাক্তি এম এন লারমার লড়াইকে একই সূতায় গাঁথা দরকার।এবং পার্বত্য চুক্তি উত্তর প্রজন্মে জুম্ম জনগণের লড়াইকে এগিয়ে নিতে সঠিকভাবে এম এন লারমাকে   উপস্থাপনও এই স...

দেশবিভাগ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম

      ছবি:ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত;”পার্বত্য চট্টগ্রাম”অংশটি স্পষ্ট করার জন্য কিছুটা এডিট করেছেন                                      চবি চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থী সুইন চাকমা।                                                     দেশবিভাগ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম  শুরুর কথা,১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের ১৫ জুলাই ব্রিটিশ পার্লামেন্টে “ভারত স্বাধীনতা আইন- ১৯৪৭“ পাশ হয়। এই আইন পাশ ভারতবর্ষে ইংরেজ শাসনের অবসান নিশ্চিত করে ।এক মাস পরে ভারত দুভাগ হয়ে যায় ।দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটো রাষ্ট্রের উদ্ভব ঘটে ।ভারতের অত্যন্ত সমৃদ্ধশালী   এবং গুরুত্বপূর্ণ দুটো   প্রদেশ – বাংলা ও পাঞ্জাবকে পূর্ব-পশ্চিম অংশে ভাগ করা হয় ।ব্রিটিশ সরকার স্বীকৃত স্বশাসিত রাজ্য পার্বত্য চট্টগ্রামকে সম্পূর্ণ   অন্যায় ও অযৌক্তিকভাবে পাকিস্তানে অর্ন্তভুক্...

মহালছড়িতে সেনা-সেটলার হামলার ১৭ বছর : হয়নি এখনো বিচার

                 ছবি:ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত আজ মহালছড়িতে সেনা-সেটেলার হামলার ১৭ বছর।২০০৩ সালরে ২৬ আগস্ট মহালছড়ি উপজেলায় সেনাবাহিনী-সেটেলার বাঙালি যৌথভাবে জুম্মদরে উপর এ হামলা চালায়।নৃশংস এ হামলার ১৭ বছর পেরিয়ে গেলেও সরকার হামলার সাথে জড়িত সেনা-সেটলারদের আজো বিচার করেনি। মহালছড়ির জুম্ম অধ্যুষিত ৫ টি মৌজার ১৪ টি গ্রামের ৩৫০টি ঘর পুড়িয়ে দেয়া হয়।এতে ২ জন জুম্ম(এক শিশু) নিহত,প্রায় শতাধিক আহত এবং ১০ জন জুম্ম নারীকে র্ধষণ করা হয়।এক হিসাবে,জুম্মদের প্রায় ৩০ লাখ টাকার সম্পত্তি,মালামাল লু›ঠন ও ধ্বংস করা হয়। হামলায় যাঁ রা নেতৃত্ব দেনঃ ০১.মহালছড়ি জোনের ২১ ইবিআর সদস্যরা; ০২.মি.আবুল কালাম আজাদ; ০৩.জহিরুল ইসলাম; ০৪.নুরুল ইসলাম; ০৫.মো.আব্দুর রশিদ; ০৬.মো.জামাল উদ্দীন; ০৭.অজিত কান্তি দাশ; ০৮.রতন কুমার শীল; ০৯.জসিম উদ্দীন; ১০.ডা.প্রদীপ কুমার চৌধুরী; ১১.তাপস বড়ুৃয়াসহ অনেকে.. যাঁরা হামলায় প্রত্যক্ষ মদদ দেয় - ১.মি.ওয়াদুদ ভূইয়া,২৯৮ নং আসনের সংসদ সদস্য,বিএনপি নেতা,সেটেলারদের সর্দার; ২.মি.হুমায়ন কবির খান,জেলা প্রশাসক,খাগড়াছড়ি; ৩.মি.মতিউর রহমান শেখ,পুলিশ সুপার,খাগড়াছড়...