সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

রাজনৈতিক জীবন গঠনে চৌ এন লাইয়ের নির্দেশ


চৌ
এন লাই এক সময় চীনের কমিউনিস্ট পার্টির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। চীন গণপ্রজাতন্ত্র গঠিত হবার পরে তিনি এ দেশটির প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৪৩ সালের ১৮ মার্চ “Guidelines for Myselfs” শিরোনামে নিজের কাজের জন্য নির্দেশনামূলক ছোট কিন্তু খুবই উপযোগী একটি তালিকা প্রণয়ন করেন। এতে মোট ৭টি নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। রাজনৈতিক নীতি আদর্শকে ঠিক রেখে তার নিজের জন্য যে করণীয় সে বিষয়েই তিনি এতে আলোকপাত করেন। আমার মতে, একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিকে একই সাথে একজন সামাজিকভাবে দায়িত্ববোধসম্পন্ন ব্যক্তিরও চৌএনলাই -এর নিজের জন্য প্রণীত এই করণীয় বা নির্দেশনাগুলো পাঠ করা এবং মেনে চলা একান্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নিচে করণীয় বা নির্দেশনাসমূহ বাংলা অনুবাদ করে তুলে ধরা হলো :

১. পড়াশুনা করো একান্তভাবে বা অধ্যবসায়ের সাথে। বিভিন্ন বিষয়ে ভাসা ভাসা জ্ঞান অর্জন না করে যে কোন একটি বিষয়ে মন কেন্দ্রীভূত করে জ্ঞান অর্জনের চেষ্টা করো।

২. কাজ করো কঠোর পরিশ্রম করে। পরিকল্পনা প্রণয়ন করো। লক্ষ্য স্থির করো এবং পদ্ধতিমতো কাজ করে যাও।

৩. কাজ ও পড়াশুনাকে এক সাথে এগিয়ে নাও। তাদের উভয়কে সময়, স্থান ও পরিস্থিতি ভেদে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ব্যবহার করো। এবং পর্যালোচনার ব্যবস্থা করো ও সুসংবদ্ধ করে তোল। একই সাথে নতুন কিছু করো এবং সৃজনশীল হও।

৪. নিজের ভেতরে যে ভুল ধারণা বা দৃষ্টিভঙ্গি বা চিন্তা বা ভুল আদর্শিক ধারণা আছে এবং অন্যদের মধ্যেও যা আছে তার বিরুদ্ধে ছাড় না দিয়ে নীতি বা মৌলিক নীতিকে অক্ষুণ্ন বা ঠিক রেখে কাজ করো।

৫. নিজের যে দুর্বলতা আছে তা থেকে রেহাই পেতে সুনির্দিষ্ট প্রদক্ষেপ নাও এবং নিজের যোগ্যতাকে যথাযোগ্যভাবে ব্যবহার করো।

৬. কখনোই জনগণের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হবে না। জনগণের কাছ থেকে শিক্ষা নাও এবং তাদের সহযোগিতা করো। সবাইকে সাথে নিয়ে জীবন এগিয়ে নাও এবং তোমার নিজের চারপাশে যারা আছে তাদের ব্যাপারে খোঁজখবর নাও বা তাদের বিষয়ে জানার চেষ্টা করো। তাদের সমস্যা বিষয়ে ধারণা নাও। নিয়মনীতি মেনে চল।

৭. নিজেকে ঠিক রাখ বা স্বাস্থ্য ঠিক রাখ। ন্যায়ানুগ জীবনপদ্ধতি বেছে নাও। এভাবেই অগ্রগতির বাস্তবভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হবে।

তথ্যসূত্র: মার্ক্সিস্টস

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

এই সময়ে এম এন লারমা: যিনি মৃত্যুর পরও নিপীড়িত জনগণের মুক্তির দিশারী;

  এই সময়ে এম এন লারমা: যিনি মৃত্যুর পরও নিপীড়িত জনগণের মুক্তির দিশারী; ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০     পোট্রেটঃ পাপিয়া চাকমা,জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার শিক্ষার্থী;     [গত ১৫ সেপ্টেম্বর এন লারমার ৮১ তম জন্মদিবস ছিল।১৯৩৯ সালের তিনি রাঙামাটির “মাওরুম“ নামে ছোট্ট নদীর/ছড়ার তীরে মাওরুম গ্রামে জন্মেছিলেন। এম এন লারমা কারো কাছে পরিচিত ‘লিডার’,তাঁর ভাই বোনের কাছে পরিচিত মঞ্জু নামে,জুম্ম জনগণের প্রায় সকলের কাছে তিনি অবিসংবাদিত নেতা,পার্টির নামে তিনি পরিচিত “প্রবাহণ “।তাঁর পুরো নাম মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা।মহান এই নেতাকে  জানাই লাল সালাম।গত কয়েকদিন আগে তাঁকে নিয়ে অনেকে লিখেছেন,,বলেছেন,আবেগাক্রান্ত হয়েছেন,শ্রদ্ধায় মাথা নত করেছেন এবং কেউ কেউ  বিরুদ্ধাচারণও করেছেন।আমি মনে করি ,এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এম এন লারমার কর্ম,সাধনা,চিন্তার যথার্থ মূল্যায়ন হওয়া দরকার। নিপীড়িত জুম্ম জনগণ এবং ব্যাক্তি এম এন লারমার লড়াইকে একই সূতায় গাঁথা দরকার।এবং পার্বত্য চুক্তি উত্তর প্রজন্মে জুম্ম জনগণের লড়াইকে এগিয়ে নিতে সঠিকভাবে এম এন লারমাকে   উপস্থাপনও এই স...

দেশবিভাগ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম

      ছবি:ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত;”পার্বত্য চট্টগ্রাম”অংশটি স্পষ্ট করার জন্য কিছুটা এডিট করেছেন                                      চবি চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থী সুইন চাকমা।                                                     দেশবিভাগ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম  শুরুর কথা,১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের ১৫ জুলাই ব্রিটিশ পার্লামেন্টে “ভারত স্বাধীনতা আইন- ১৯৪৭“ পাশ হয়। এই আইন পাশ ভারতবর্ষে ইংরেজ শাসনের অবসান নিশ্চিত করে ।এক মাস পরে ভারত দুভাগ হয়ে যায় ।দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটো রাষ্ট্রের উদ্ভব ঘটে ।ভারতের অত্যন্ত সমৃদ্ধশালী   এবং গুরুত্বপূর্ণ দুটো   প্রদেশ – বাংলা ও পাঞ্জাবকে পূর্ব-পশ্চিম অংশে ভাগ করা হয় ।ব্রিটিশ সরকার স্বীকৃত স্বশাসিত রাজ্য পার্বত্য চট্টগ্রামকে সম্পূর্ণ   অন্যায় ও অযৌক্তিকভাবে পাকিস্তানে অর্ন্তভুক্...

মহালছড়িতে সেনা-সেটলার হামলার ১৭ বছর : হয়নি এখনো বিচার

                 ছবি:ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত আজ মহালছড়িতে সেনা-সেটেলার হামলার ১৭ বছর।২০০৩ সালরে ২৬ আগস্ট মহালছড়ি উপজেলায় সেনাবাহিনী-সেটেলার বাঙালি যৌথভাবে জুম্মদরে উপর এ হামলা চালায়।নৃশংস এ হামলার ১৭ বছর পেরিয়ে গেলেও সরকার হামলার সাথে জড়িত সেনা-সেটলারদের আজো বিচার করেনি। মহালছড়ির জুম্ম অধ্যুষিত ৫ টি মৌজার ১৪ টি গ্রামের ৩৫০টি ঘর পুড়িয়ে দেয়া হয়।এতে ২ জন জুম্ম(এক শিশু) নিহত,প্রায় শতাধিক আহত এবং ১০ জন জুম্ম নারীকে র্ধষণ করা হয়।এক হিসাবে,জুম্মদের প্রায় ৩০ লাখ টাকার সম্পত্তি,মালামাল লু›ঠন ও ধ্বংস করা হয়। হামলায় যাঁ রা নেতৃত্ব দেনঃ ০১.মহালছড়ি জোনের ২১ ইবিআর সদস্যরা; ০২.মি.আবুল কালাম আজাদ; ০৩.জহিরুল ইসলাম; ০৪.নুরুল ইসলাম; ০৫.মো.আব্দুর রশিদ; ০৬.মো.জামাল উদ্দীন; ০৭.অজিত কান্তি দাশ; ০৮.রতন কুমার শীল; ০৯.জসিম উদ্দীন; ১০.ডা.প্রদীপ কুমার চৌধুরী; ১১.তাপস বড়ুৃয়াসহ অনেকে.. যাঁরা হামলায় প্রত্যক্ষ মদদ দেয় - ১.মি.ওয়াদুদ ভূইয়া,২৯৮ নং আসনের সংসদ সদস্য,বিএনপি নেতা,সেটেলারদের সর্দার; ২.মি.হুমায়ন কবির খান,জেলা প্রশাসক,খাগড়াছড়ি; ৩.মি.মতিউর রহমান শেখ,পুলিশ সুপার,খাগড়াছড়...