সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

জানুয়ারি, ২০২১ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

রাজনৈতিক জীবন গঠনে চৌ এন লাইয়ের নির্দেশ

চৌ এন লাই এক সময় চীনের কমিউনিস্ট পার্টির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। চীন গণপ্রজাতন্ত্র গঠিত হবার পরে তিনি এ দেশটির প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৪৩ সালের ১৮ মার্চ “Guidelines for Myselfs” শিরোনামে নিজের কাজের জন্য নির্দেশনামূলক ছোট কিন্তু খুবই উপযোগী একটি তালিকা প্রণয়ন করেন। এতে মোট ৭টি নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। রাজনৈতিক নীতি আদর্শকে ঠিক রেখে তার নিজের জন্য যে করণীয় সে বিষয়েই তিনি এতে আলোকপাত করেন। আমার মতে, একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিকে একই সাথে একজন সামাজিকভাবে দায়িত্ববোধসম্পন্ন ব্যক্তিরও চৌএনলাই -এর নিজের জন্য প্রণীত এই করণীয় বা নির্দেশনাগুলো পাঠ করা এবং মেনে চলা একান্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিচে করণীয় বা নির্দেশনাসমূহ বাংলা অনুবাদ করে তুলে ধরা হলো : ১. পড়াশুনা করো একান্তভাবে বা অধ্যবসায়ের সাথে। বিভিন্ন বিষয়ে ভাসা ভাসা জ্ঞান অর্জন না করে যে কোন একটি বিষয়ে মন কেন্দ্রীভূত করে জ্ঞান অর্জনের চেষ্টা করো। ২. কাজ করো কঠোর পরিশ্রম করে। পরিকল্পনা প্রণয়ন করো। লক্ষ্য স্থির করো এবং পদ্ধতিমতো কাজ করে যাও। ৩. কাজ ও পড়াশুনাকে এক সাথে এগিয়ে নাও। তাদের উভয়কে সময়, স্থান ও পরিস...

রাষ্ট্র কী প্লুং বাঁশির বেদনার সুর শুনবে?

তারিখঃ ১১ নভেম্বর ২০২০ ২০১৩ সালের ৬ নভেম্বর সাজেক ভ্যালিতে পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছিলেন চট্টগ্রাম ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি সাব্বির আহমেদ। ঘোষণার কিছুদিন পরেই ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ সালে রাষ্ট্রপতি মো: আব্দুল হামিদ ৩০ জন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নিয়ে সাজেক ভ্যালি দেখতে গিয়েছিলেন। জানা যায়, মহামান্য রাষ্ট্রপতি লুসাই আদিবাসী অধ্যুষিত রুইলুই পাড়ায় বেশ স্বাচ্ছন্যপূর্ণ ও সুন্দর সময় কাটিয়ে ফিরেছিলেন। সাজেকের সৌন্দর্য তখন থেকে পর্যটকদের কাছে ডানা মেলা শুরু করেছে এবং সাজেক প্রমোটে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে তখন দেশের সব মিডিয়া, সেনাবাহিনী, বিভিন্ন ট্রাবেল গ্রুপ ও উন্নয়নের রাজনীতি করা নেতা-আমলারা। এই পর্যটন প্রমোট ও গড়ে তোলার ফাঁকফোকরে পড়ে কখন যে রুইলুই পাহাড়ে লুসাই ৮৫ পরিবার উচ্ছেদ হয়ে গেলো আমরা কেউ জানতেও পারলাম না। কোনো মিডিয়া, সরকারি কর্মকর্তা ও আমলারা এ বিষয়ে টুঁ শব্দ করেননি, কেউ কিছু বলেননি। সবাই নীরব ছিলেন। গতমাসে (১৫ অক্টোবর, ২০২০ ) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বান্দরবান সফরে গিয়েছিলেন। তিনি থানচি উপজেলায় বেশ কিছু পর্যটন স্পট ঘুরে দেখেন। এরমধ্যে স্থানীয় ভূমি...

পার্বত্য চট্টগ্রামে রাষ্ট্রের ডেমোগ্রাফিক প্যাটার্ন ও ইসলামিক আধিপত্যবাদ

তারিখ ঃ ১৭ অক্টোবর ২০২০ রাষ্ট্রের গোড়াপত্তনের ইতিহাসে কিছু কিছু অঞ্চলে জনসংখ্যা পরিবর্তনের সাথে রাষ্ট্রের আধিপত্যের একটা গভীর সম্পর্ক আছে। যখন রাষ্ট্রের আধিপত্যের প্রশ্ন আসে তখন ধর্মের আধিপত্যও মাথা চাড়া দিয়ে ‌উঠে। যেমন হয়েছিল কলম্বাসের আমেরিকা আবিষ্কারের পর, কিংবা অফ্রিকা-এশিয়ায় ইউরোপীয়দের কলোনী আবিষ্কারের পর। সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলো কিংবা উত্তর-পশ্চিমের রাজ্য কাশ্মীরে এই রাজনৈতিক ও ধর্মীয় আধিপত্য প্রবল আকার ধারণ করেছে। গত বছর কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করা হলে ভারতের কেন্দ্রীয় কট্টর হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপি, হিন্দু সভা, আরএসএস ধর্মীয় আধিপত্য বিস্তারে কাশ্মীরে দৌঁড়ঝাপ শুরু করে। যদিও অনেক আগে মুসলিম অধ্যুষিত জম্মু শহরে হিন্দু অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে হিন্দু অধ্যুষিত অঞ্চলে পরিণত করা হয়েছে। তেমনি আমাদের পার্শ্ববর্তী ত্রিপুরা রাজ্যেও হিন্দু বাঙালি অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে স্থানীয় ভূমিপুত্র ত্রিপুরাদের সংখ্যালঘু করা হয়েছে। রাষ্ট্র সরাসরি এই আগ্রাসন ও আধিপত্যের সঙ্গে জড়িত। প্রায় সময় রাষ্ট্রের স্বার্থের প্রয়োজনে নির্দিষ্ট অঞ্চলগুলোতে ডেমোগ্রাফিক চেঞ্জ বা জনসং...

পার্বত্য চট্টগ্রামে বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ এবং রাষ্ট্রের বিচ্ছিন্নতা তত্ত্ব

তারিখ :২৭ অক্টোবর ২০২০ কার্ল মার্কস প্রথম বিচ্ছিনতা (alienation) প্রত্যয়টি ব্যবহার করেন। মার্কসের মতে এই বিচ্ছিন্নতা হল এমন একটি সামাজিক ব্যবস্থা যা একজন মানুষকে একটি অর্থপূর্ণ ও সৃষ্টিশীল জীবনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করে। অর্থাৎ একজন মানুষ যখন আধুনিক পুঁজিবাদী সমাজে উৎপাদন, সামাজিক ব্যবস্থা, সংগঠন, নিজের শ্রমের সাথে একাত্ম হতে পারে না তখন সে সবকিছু থেকে বিচ্ছিন্নবোধ করে। এভাবে বোঝা আরো সহজ, যখন আধিপত্যবাদী রাষ্ট্র জনগণের সঙ্গে আধিপত্যের সম্পর্ক স্থাপন করার চেষ্টা করে তখন জনগণের মধ্যে বিচ্ছিনতাবোধের জন্ম হয়। এবং রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানের সাথে জনগণের সম্পর্কও বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। যদিও মার্কস শ্রমিক শ্রেণিকে প্রাধান্য দিয়ে তাঁর তত্ত্বকে উপযোগী করেছেন । কিন্তু এ বিচ্ছিনতার ধারণা আধুনিক পুঁজিবাদী সমাজে সকলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য এবং বড় সংকটও বটে। পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের ক্ষেত্রে ও রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকরা এই বিচ্ছিন্নতা তত্ত্বকে সফলভাবে প্রয়োগ করেছেন । দীর্ঘ পাঁচ দশক ধরে ব্যয়বহুল সামরিক শাসন জারি রেখে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর উপর শারীরিক ও মনস্তাত্ত্বিক আধিপত্য কায়েম করার সর্বোচ্চ চেষ্টা হয়েছে। ...